বিভাগ - সমাজ

জিপ চলেছে কিষাণগঞ্জ টাউন ছেড়ে বহু দূরে। নেপাল সীমান্তের কাছে টেড়াগাছ নামে এক হাটবাজারে। চড়াই উৎরাই রাস্তা। মোরামের ব্যান্ডেজ আর বোল্ডারের প্লাস্টার বাঁধা। কালো ভূতকে ফর্সা পরী বানিয়ে দিতে পারে এক সেকেন্ডে, এমনই ধুলো ওড়ে। নভেম্বরের শীতের আরাম জড়ানো আমিরি মেজাজ পাত্তাই পাচ্ছে না। সাদা পলকা তুরন্ত জিপটা বেমানান। সামনে লাগানো পালক-পলকা লাউডস্পীকার এমনকি বাতাসে দোলা তেরঙ্গা পতাকাটিও। আরও বেমানান ভেতরের প্রধান আরোহী এম জে আকবর। হাতে নোট বই নেই, পাশে বসা ফটোগ্রাফার বন্ধু নেই। দৃষ্টিতে প্রশ্নের প্রখর ভাবটা নেই। কালো ডোরাকাটা লম্বা ঝুলের পাঞ্জাবি আর আঁটো পাজামা আর জওহর ফোটে এ আর এক আকবর। ব্যস্ত হাত নড়ছে ক্রমাগত প্রত্যাশার ভোটারদের দিকে। ইদগা মসজিদের ধারে কাছে। চায়ের দোকান, পানবিড়ির দোকানের সামনে। গরুর গাড়ির গাড়োয়ান আর ধানবোঝাই মাখার আদিবাসী রমণীর দিকে। এ হাত কিষেনগঞ্জের ভোটের মোহর কোড়াতে ব্যস্ত। এ হাত মোফাস্স্সর জাভেদ আকবরের কংগ্রেসি ‘হাত’। দ্য টেলিগ্রাফের সম্পাদক এম জে আকবরের কলমের হাত নয়। অথচ এই ‘কলমের হাতে’র জোরেই কিন্তু ওঁরা আজ স্বনামধন্য। ওঁরা মানে এবারের লোকসভা নির্বাচনে যে ক’জন সাংবাদিক প্রার্থী হিসাবে দাঁড়িয়েছেন- আকবর, উমাশঙ্কর হালদার (কং প্রার্থী, হুগলি), ইন্দরজিৎ (কং সমর্থিত, দার্জিলিং), সন্তোষ ভারতীয়া (জনতা দল, ফারুকাবাদ, উঃ প্র)-রা মোহরের ভোটে জিততে পারবেন কি না বলা শক্ত। কিন্তু সূচিতীক্ষ্ণ কলমের জন্য পাঠকের মনের ভোট তাঁরা কবেই পেয়ে গিয়েছেন। গত দশ পনেরো বছর ধরে তরুণ তুর্কি এম জে আকবর তো বটেই, গত তিন দশক ধরে বাংলার গ্রামজীবন নিয়ে সংবাদপত্রে ধারাবাহিক আলোচনায় উমাশার হালদার (হলঘর পটল)ও। যুবক সাংবাদিক হিন্দি সাপ্তাহিক ‘চৌখি দুনিয়া’-র সম্পাদক সন্তোষ ভারতীয়াও গত দশক ধরে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রনীতির, কংগ্রেসের মাথাদের ‘দুর্নীতি’র বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছেন। প্রবীণ সাংবাদিক ইন্দরজিৎ- সাংবাদিকতা যাঁর মজ্জায় মজ্জায়। বাবা দুর্গাদাস ছিলেন নামী সাংবাদিক। ইন্দরজিৎ-কন্যাও এখন রিপোর্টার। দিল্লির একটি ইংরাজি কাগজে। কলম নিয়েই এঁদের প্রত্যেকের ঘরকন্না। অতএব কলমের জোর ওঁদের নির্বাচনী প্রচারে একটা অন্য রকম ছাপ ফেলবেই। একটু নাটুকেপনা, একটু বেশি মাত্রায় আবেগ। দেশের হাল আমলের খবরাখবরের উপর দখলদারি রাখার একটা বাড়তি দাবি। অবিরল সংখ্যাতত্ত্বের ফিরিস্তি। স্থান কালপাত্র সহ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ এঁদের বক্তৃতা, কথাবার্তা, সওয়ালজবাবে উঠে আসছেই। বা বৃত্তিসূত্রে দেশের তাবড় তাবড় নেতা, মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার অভিজ্ঞতাটাকেও প্রচারে কাজে লাগানো। এবং ভ্যাবা গঙ্গারামের মতো লোক না হাসিয়েও। সুনিপুণ কায়দায়। রিপোর্ট লেখার সময় যেভাবে নেতাদের কথাবার্তা, বক্তৃতার কিছুটা ছেপে কিছুটা চেপে লেখাটা সাংবাদিকতার দপ্তর, ঠিক সেভাবেই। কথা সাজানোর চালেই কথার অর্থ পালটে দেওয়া। একটুও বিকৃত না করে।
যেমনটা হল কিষেনগঞ্জে, সেদিন বিকেলে। টাউন থেকে শ’খানিক কিলোমিটারেরও বেশি দূরে টেড়াগাছ এলাকায়। ওখানে আকবরের একটা জনসভা ছিল ওদিন। কিন্তু সকালেই খবর এসেছিল কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা আসছেন কিষেনগঞ্জে। বলাবাহুল্য টেড়াগাছ নয়, ফারুকসহ নির্বাচনী সভার স্থান বদলে হয়েছিল কিষেনগঞ্জ শহর এলাকা। কিন্তু সাত তাড়াতাড়ি, ভোরবেলাতেই বেরিয়ে পড়েছিলেন আকবর টেরাগাছ এলাকার পানে। পথে যত জায়গায় সমর্থকদের জটল্লা, তেরঙ্গা পতাকা ওড়া নির্বাচনী অফিস দেখছেন আকবর, থেমে গিয়েছেন। ‘মাফি মাঙ্গনে কে লিয়ে।’ কেন? ‘আরে আজ ফারুক আসছে হঠাৎ। ফোন করেছিল সকালে।’ ফারুক? কে? ‘ফারুক আবদুল্লা হ্যায় না। বহুত পুরানা দোস্ত। ফোনে বলেছে যে কাশ্মীর থেকে বেরিয়ে পড়েছে। আজ আসবে। এখানকার মিটিং ভাই আজ বাদ রইল। ম্যার তো ইধর মজবুরি মাজনে কে লিয়ে আয়া হুঁ। চলি। পরনাম! খোদা হাফেজ!’
এক ঢিলে দুই নয় অনেক পাখিই মরল। যে কায়দায় আকবর ওসব এলাকার উষ্ণ সাম্প্রদায়িক আবহাওয়াকে জুড়িয়ে দিচ্ছিলেন হালকা, ঠাণ্ডা বাতাসে তা-ও দেখার মতো। পূর্ণিয়ার মুসলিম প্রধান ধনপুরাহাটের লাগোয়া মসজিদের কাছে সদর রাস্তায় গাড়ি ঢুকতেই উত্তেজিত একদল যুবকের নানা প্রশ্ন, অভিযোগ। বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি সওয়াল জবাব। শিলান্যাস ইত্যাদি নিয়ে গরমাগরম কথাবার্তা। বাচ্চাবুড়োকে আকবরের জবাব, আমি এটুকুই বলব আমাদের (‘হামলোগোকা) সেন্টিমেন্ট যদি থাকে, হিন্দুদেরও তো সেন্টিমেন্ট আছে। বাবরিতে তো আমরা এমন কিছু করিনি যাতে কোনও পক্ষেরই সেন্টিমেন্টে আঘাত লাগে।’
কোনও বন্দুকবাজ পুলিশ অফিসার বা কোনও বাঘা আই সি এসের কাছ থেকে কনফিডেনশিয়াল রিপোর্ট বার করে আনার মতো রিপোর্টারি মেজাজ আছে এই সব ব্যবহারে। এই ঠান্ডা, এই গরম। কখনও বা একই সঙ্গে ঠান্ডা-গরম। যে লোক মিনিট দশেক আগেও ক্রমাগত মিঠে গলায় বলে চলেছিল ‘সালাম আলেকুম’, ‘ইনশাআল্লা’ আর ‘খোদাহাফিজ’ সেই লোকই যে কেমন খ্যাপা বাঘের মতো হুহুংকার দিয়ে উঠতে পারে অন্যত্র তা-ও দেখা গেল। ব্যাপারটা এ রকম। জিপ গাড়ি গিয়ে থামল যেই বাহাদুরগঞ্জে, আকবর গম্ভীর। এই এলাকাতেই তার এক প্রতিদ্বন্দ্বী, কংগ্রেসের টিকিট না পেয়ে বিক্ষুব্ধ নির্দল প্রার্থী ‘মৌলনা’, ঝামেলা পাকাচ্ছে খবর ছিল। কংগ্রেসের কিছু লোক আড়ালে আবডালে ‘মৌলানার’ হয়েই না কি খেটে বেড়াচ্ছে। জিপ থামিয়ে ‘আকবরসাব’ ঢুকলেন ইলেকশন অফিসে। সঙ্গে সঙ্গেই ছোটখাটো একটা ভিড় জমে গেল তাঁকে ঘিরে। কিছুক্ষণ পর অফিস থেকে বেরিয়ে এলেন। হাঁটতে শুরু করলেন জনবহুল, ঘিঞ্জি বাহাদুরগঞ্জের বড় রাস্তার উপর। এক কোণে সবুজ পতাকা লাগানো জনতা দলের প্রচার-ভ্যান। ‘মুন্না মুস্তাক’ নামে এক প্রার্থীর হয়ে কানঝালাপালা করা স্লোগান। ‘মুন্না মুস্তাক সাব আ রহে হ্যাঁয়।” আকবরকে দেখে ওই ভ্যানের ভিতর থেকেও উকিঝুঁকি মারছে কৌতূহলী চোখ। হঠাৎ সেখানে থেমে গেলেন আকবর। পিছনের সাঙ্গোপাঙ্গদের বলে উঠলেন, ‘কিষেনগঞ্জে আমি হারতে আসিনি। একথা মনে রেখ।’ বললেন জোর গলায়। প্রচারসঙ্গী ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় ক্লিক পড়ল। ঠিক এখান থেকে জিপে উঠলেন ‘আকবর সাব।’ তবে নাটকীয়তায় আকবর, হলধর পটলের কাছে নিতান্তই যাকে বলে ‘শিশু’। এবং বাঙ্খিতাতেও। গড়ে বিশটা করে মিটিং, গ্রুপ মিটিংয়ে সকালের পদযাত্রা আর রাতের প্রচারসভার মাধ্যমে তাঁর প্রমাণ দিচ্ছেন হলঘর। বামফ্রন্টের পঞ্চায়েতের ‘অপশাসন’ বা ‘দুর্নীতি’-র প্রমাণ দাখিল করার সময় দশমিকের পর তিন ঘর পর্যন্ত টাকার অঙ্ক মুখস্থ বলছেন। ‘কমিউনিজমের ঘৃণার দর্শন বোঝাতে গিয়ে লেনিনের বইয়ের উল্লেখ (‘গোল্ডেন জুবিলি সংস্করণ, উনিশ পাতা) করছেন নিখুঁত। দুনিয়ার দিকে দিকে মার্কসবাদীদের পরাজয় বোঝাচ্ছেন শান্তিগোপালের যাত্রার থেকেও উপভোগ্য ভঙ্গিতে। সঙ্গে গড়গড়িয়ে চলছে হিসেব, সংখ্যা নামতার মতো। সুপ্রিম সোভিয়েত নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টি পলিটব্যুরো সদস্যের ইয়েলট্রিসনের হাতে পরাজয়, পোল্যান্ডে লেচ ওয়ালেসার নির্বাচনে বিজয় (‘১৬১টি অসংরক্ষিত সিটের ১৬১টিতেই) হাঙ্গেরিতে কমিউনিস্ট পার্টির নাম মুছে যাওয়া (১৪৫৯ জন পার্টি পদাধিকারীর ১৩০০ জনের ভোটে’), পূর্ব জার্মানি থেকে ‘হোনেকারের প্রস্থান এবং সর্বশেষে বার্লিন দেয়াল উঠিয়ে দেওয়ার’ রোমহর্ষক সংক্ষিপ্ত বিবরণ। যা শুনলে পরে হোনেকারকে পাকিস্তানি গুপ্তচর ‘রাজাকয়’ বলেই মনে হতে পারে। বা গোঁফওয়ালা চোখে ঠুলি পরা হিন্দি ছবির ভিলেন। চমৎকার! আবার বলি, চমৎকার: শাজাহান নাটকের জাহানারার এই দুর্দান্ত ডায়লগও সময় বিশেষে সভায় চালাচ্ছেন হলধর। রাত এগারোটা বেজে যাচ্ছে। লোক তবুও নড়ছে না। বলছেন, আওরঙ্গজেবকে ভ্রাতৃহত্যার অভিযোগে ধিক্কার জানাতে এসেছিলেন যখন জাহানারা, আওরঙ্গজেব তখন বলেছিলেন, রইল সিংহাসন। আমি ফকির মানুষ। মক্কার দিকে তাকিয়ে আছি। চললাম আমি। শুনে জাহানারা বলেছিলেন, চমৎকার আওরঙ্গজেব, আবার বলি চমৎকার। ‘জ্যোতিবাবুদের ভণ্ডামি দেখে আমিও বলছি, চমৎকার জ্যোতিবাবু, আবার বলি চমৎকার।’ লোক তারিফ করছে? হাততালি? ‘আরিব্বাস! বক্তৃতা শেষ হতেই চটপট চটপট চটপট আওয়াজ। হাজার দশেক পায়রা উড়ে গেল যেন।’
ইন্দরজিৎ কিন্তু নিজেকে এ সব কিছুর ঊর্ধ্বে রাখতে চান। এই মুহূর্তে নিজেকে সাংবাদিক হিসাবেও লোকের বাছে হাজির করতে তাঁর বিলক্ষণ আপত্তি। ‘দেখুন আকবরের সঙ্গে আমাকে একই আয়গার রাখাটা বোধহয় ঠিক নয়’-শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটা জনসভা শুরুর আগে এ কথা বলেছিলেন ইন্দরজিৎ। একুশ নম্বর জাতীয় সড়কের লাগোয়া একটি শিবমন্দির চত্বরে, সন্ধ্যায় এক জনসভায় ভাষণ দিতে এসেছিলেন। সামনে জোর লড়াই। একে তো বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস প্রার্থীসহ ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তায় গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো তাঁর নির্বাচনী চিহ্ন (স্বস্তিকা) নিয়ে বামফ্রন্ট নানা আক্রমণ (হিটলার, ধর্ম ইত্যাদি) শুরু করেছেন। উনি বলেছিলেন, সাংবাদিকরা যেভাবে নানা রাজনৈতিক মতামত, পক্ষ নিয়ে এবারের নির্বাচনে এসেছেন, ‘আমি কিন্তু সেভাবে আসিনি। ঘিসিং ওঁকে একজন ‘নির্জেটি, অরাজনৈতিক, তর্কাতীত’ মানুষ মনে করেই ‘সেবে টিকিট দিয়েছিলেন।’ এবং নির্বাচনে তিনি লড়ছেন ‘সাংবাদিক পরিচয়ে নয়, একজন বিশিষ্ট জনসেবক হিসাবে।
সে কথাই দার্জিলিত কেন্দ্রের সমতলে বা পাহাড়ে বলে চলেছেন ইন্দরজিৎ। দার্জিলিঙ চুক্তিতে তাঁর ‘অরাজনৈতিক, বন্ধুত্বপূর্ণ ভূমিকার’ কথা। শাস্তির ললিতবাণীতে বিশ্বাসের কথা। বুটা সিংহ থেকে জ্যোতিবাবু বা রাজীব গান্ধীর যে জন্য তাঁর সাহায্যের ‘প্রয়োজন হয়েছিল’। দিল্লির লোক বলে এখানে দাঁড়ানোয় এত ‘আপত্তি ওঠা’ প্রসঙ্গেও বলছেন তিনি ‘ইস মে কই হর্জ নেহি। ম্যায় ইধার ই কিউকি ঘিসিংজি নে মুঝে ইধার বুলায়া।’
বাগডোগরা বা শিলিগুড়িতে তাঁর ভাষণে ইন্দ্রজিৎ বিস্তারিত বিবরণ দিচ্ছেন দার্জিলিত চুক্তির ক্যালেন্ডারের তারিখ উল্টে উল্টেই। দিনের পর দিনের নিখুঁত হিসাবে। এবং শেষে বলছেন দার্জিলিঙ সমস্যার সমাধানে একধরনের ‘কাউনসিল’ গড়ে তোলার সুপারিশ ‘আমিই জ্যোতিবাবুকে দিই।’
সব্বাই গোল হয়ে দাঁড়িয়ে, মুগ্ধভাবে শুনছিল ইন্দরজিতের কথা। পাশে একুশ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে নিরস্তর বয়ে চলা লরি, বাসের হর্নের আওয়াজ। সে সব উপেক্ষা করেই। ভাষণ শুরুর আগে ভাগেই বলে নিচ্ছিলেন, ‘সমঝা মে নহি আতি হ্যায় ক্যায়সে শুরু করু।’ ভাষণ দেওয়ার ‘আদত’ নেই যে তাঁর। ধীরগলায় শান্ত স্বরে, টানটান একটা বক্তৃতা কিন্তু আগাগোড়াই দিয়ে গেলেন ইন্দরজিৎ। সভার শেষে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, পারছি কিছু বলতে? হালয় থেকে বলছি, ঝানু রাজনীতিকদের মতো বলতে পারি না তো! হৃদয়ের এই মেলবন্ধনেই হয়তো ঘিসিংয়ের ঘনিষ্ঠ মানুষ হয়ে উঠেছেন ইন্দরজিৎ। ‘তর্কাতীত, অরাজনৈতিক নির্জোট’ ব্যক্তিত্বের সার্টিফিকেট পেয়েছেন। কিন্তু ঘিসিং বাদে অন্যরা? তাঁদের চোখে তর্কাতীত তো ননই বরং বহু বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু তিনি। দার্জিলিঙের সেই অশান্ত সময় থেকেই। ‘নির্জোট’? হয়তো। কিন্তু তাঁকে নিয়ে তাঁর সমর্থক দলেই তো হাজার কোঁদল। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও বামমহলে হাজার সন্দেহ। ইয়ে ইন্দরজিৎ কওন হ্যায়? এই ইন্দরজিৎটা কে ইত্যাদি বাঁকা মন্তব্য। ইন্দরজিতের হৃদয়ের নিশ্চয়ই যুক্তি আছে, সকল হৃদয়ের মতোই। হাদয়ের যুক্তি, যুক্তির অগোচর। ঘিসিংয়ের মতো কবিরা হয়তো এ মহাজন বাক্যটির মম বোঝেন। কিন্তু রাজনীতির কবিরাজরা।

২২ নভেম্বর ১৯৮৫, আনন্দবাজার

সাম্প্রতিক প্রবন্ধ

বিভাগ – শহর পৌরাণিক অভিধানে যে কথাই লেখা থাকুক, বসফরাসের চালু তুর্কি অর্থগুলো সবই

বিভাগ – শহর সব ‘নতুন’-ই কোনও না কোনও দিন পুরনো হয়ে যায়। কলকাতার যেমন

বিভাগ – শহর স্মৃতির পাতায় কত কী যে গন্ধের দাগ। ফরাসি ঔপন্যাসিক মার্সেল প্রুস্তের

বিভাগ – শহর সেই বার নেই সেই বারাঙ্গনারাও নেই। গায়ে-হলুদ-দেওয়া বিকেলে দুটো-একটা পয়সা পেলে

বিভাগ – ব্যক্তিগত বড্ড মিস করি কলকাতায় আসা ইস্তক সুদেবদাকে। হুট করে রাগ করে

বিভাগ – ব্যক্তিগত অভিনয়ে উত্তমকুমার, আর সাংবাদিকতায় বরুণ সেনগুপ্ত। আশির দশকের গোড়া পর্যন্ত এটাই

Scroll to Top