বিভাগ – শহর পৌরাণিক অভিধানে যে কথাই লেখা থাকুক, বসফরাসের চালু তুর্কি অর্থগুলো সবই
বিভাগ - শহর
দুনিয়ার শহরগুলোকে ঘিরে সবারই কোনও কোনও একটা ধারণা জড়িয়ে থাকে। বড়লোকদের এক রকম, গরিবদের আর এক রকম। চাকুরের এক রকম, মালিকের আর এক রকম। শিল্পীর এক রকম, বেওসায়ীর আর এক রকম। ঘোর সংসারীর এক রকম। আর আমার মতো ভ্যাগাবন্ডের আর এক রকম।
আমার কাছে শহর মানে, কোনও বই, কোনও লেখক, কোনও সঙ্গীতস্রষ্টা, কোনও নারী, কোনও ছবি বা মিউজিয়াম। বা কোনও বার, কাফে। যেমন সেন্ট পিটার্সবার্গ (কমিউনিস্টদের লেনিনগ্রাদ) বললেই আমার মনে আসে থিওদোর দস্তয়েভস্কির নাম, সুবোধ মিশকিন, উদ্ধত রোগাঝিন আর সুতনুকা নাসতাসিয়ার ত্রিকোণ প্রেম-রহস্য, রাতের ট্রেনে ঝগড়া-কাজিয়ার শোরগোল। যেমন লন্ডন বললেই মনে পড়ে অ্যাকটর স্যামুয়েল জনসনকে, লন্ডনের অলিগলির গোলকধাঁধায় সারাজীবন ‘ম্য’ হয়ে থাকা সেই লেখক অভিধান-রচয়িতাকে: ‘নো স্যার, হোয়েন আ ম্যান ইজ টায়ার্ড অফ লন্ডন, হি ইজ টায়ার্ড অফ লাইফ, ফর দেয়ার ইজ ইন লন্ডন অল দ্যাট লাইফ ক্যান অ্যাফোর্ড। তাঁর জীবনীকার স্কটল্যান্ডবাসী বসওয়েলকে জনসন জানিয়েছিলেন, ‘লাইফ অফ স্যামুয়েল জনসন’-এ।
হ্যাঁ, এ রকম ধারণা প্যারিসকে ঘিরেও আছে। ফুটপাথে, মেট্রোয়, কাফের গল্পে তো আছেই, মার্কিন ঔপন্যাসিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের লেখাতেও আছে। তাঁর ‘আ মুভেবল ফিস্ট’ (যার চরিত্রাবলীতে আছেন স্কট ফিটজেরাল্ড, ফোর্ড ম্যাডকস ফোর্ড, জেমস জয়েস, ডস পাসোস প্রমুখ) নামের স্মৃতিকথা তো শুরুই হয়েছে: ‘ইফ ইউ আর লাকি এনাফ টু হ্যান্ড লিভড ইন প্যারিস অ্যাজ আ ইয়ং ম্যান, দেন হোয়্যারেভার ইউ গো ফর দ্য রেস্ট অব ইয়োর লাইফ, ইট স্টেইজ উইথ ইউ, ফর প্যারিস ইজ এ মুভেবল ফিস্ট’। যৌবনে প্যারিসে থাকার মতো যথেষ্ট ভাগ্যবান তুমি যদি হও, তা হলে বাকি জীবনে যেখানেই যাও না কেন, ও শহর তোমার সঙ্গে থাকবে। কেনননা প্যারিস এক চলত ফিস্টি।
আমি সেই বিরল ভাগ্যবানদের একজন যার যৌবনের বেশ কিছুটা কাল প্যারিসেই কাটে। হস্টেলে, ইউনির্ভাসিটি, রেস্তোরীর, কাকেতে, বারে এমনকী লালপাড়া সাঁ দনি আর পিগলেও। ক্যারাভান থেকে নেমে পড়া সুন্দরীদের স্ট্রিপটিজ দেখি। ফলি বার্জারের মতো বিখ্যাত নাইটক্লাবেও যাই। কফি খেয়েছি, লাল মদ, সাদা মদ (সস্তা বোজোলে তো ছিল জলের সমান), মৌরীমদে (পেরনো) নিরস্তর গলা ভিজিয়েছি। বইপাড়ায় গালিমারের সস্তা বই কিনেছি ফাঁড়ি-কাঁড়ি, প্যাকেট-প্যাকেট গোলোরাজ-এ খোঁরাকার হয়ে গেছি। দুনিয়াদারির এই আনন্দ আজও আমায় ছাড়েনি। মনে মনে সেই গ্লোবট্রটারটিই রয়ে গেছে, যে কখনও মাদ্রিদের প্লাজায় সন্ধেরাতে বসে বিয়ার পান করে, কখনও দুপুরের ভুরিভোজ সারে মালাগা ওয়াইনে। আবার উত্তরপ্রদেশের কোনও পতঝরি হেমন্তে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে নেওয়া শুকনো গাছের ডালকে লাঠি করে পথ হাঁটে। কখনও ইস্তানবুলে বসফরাসের ধারে নোঙর বাঁধা নৌকোয় ভাজা মাছের স্যান্ডউইচ গোগ্রাসে গেলে, কাঁটামাটার তোয়াক্কা না করে। যে সব দেশে আমি কোনওদিন যাইনি কখনও, সেসবের গল্প যখন কেউ শোনায়, আমার চোখমুখ হয়ে ওঠে ডাকঘরের রুপ্ন অমলের মতো। মনে মনে বলে উঠি, নিয়ে যাবে আমাকে দইওয়ালা।
কিন্তু যেখানেই যাই না কেন, কাছে বা দূরে, সারাক্ষণ মন কেমন করে এ হতচ্ছাড়া কলকাতার জন্য। একটু বৃষ্টি পড়লে, আকাশে-বাতাসে একটু শরৎ শরৎ আলো-গন্ধ ফুটে উঠলে মনের মধ্যে ঢ্যাং কুড়কুড় ঢাকের বাদ্যি বেজে ওঠে। আর কিছু ভালো লাগে না তখন। না ভালো শাঁ মিশেল চত্বর, না ভালো বুলভের শাঁজেলিজে, আর্ক দ্য ত্রিয়োমফ, লুকল্পমবুর্গ, ব্রোকাদেরোর বাগান। কেবল গঙ্গার ঘাট, কেবল হাওড়া ব্রিজ, কেবল কলেজ স্ট্রিট, কেবল গড়িয়াহাটের চুলখোলা মেয়ের দল। আর এক ত্রিনয়নীর মুখ। যার রূপের সীমা নেই।
দ্বিতীয় বর্ষ, দ্বিতীয় সংখ্যা, ১-১৪ অগস্ট ২০০৯, একদিন লাইভ
সাম্প্রতিক প্রবন্ধ
জাফর, গালিব আর সেই মহাবিদ্রোহ
বিভাগ – শহর সব ‘নতুন’-ই কোনও না কোনও দিন পুরনো হয়ে যায়। কলকাতার যেমন
পুরনো বিকেলে বিগত আড্ডা
বিভাগ – শহর স্মৃতির পাতায় কত কী যে গন্ধের দাগ। ফরাসি ঔপন্যাসিক মার্সেল প্রুস্তের
বারে বারে ফেরালে আমায়
বিভাগ – শহর সেই বার নেই সেই বারাঙ্গনারাও নেই। গায়ে-হলুদ-দেওয়া বিকেলে দুটো-একটা পয়সা পেলে
অপরাজেয় সুদেবদা
বিভাগ – ব্যক্তিগত বড্ড মিস করি কলকাতায় আসা ইস্তক সুদেবদাকে। হুট করে রাগ করে
চলো চলো, চিনে ফেলেছে
বিভাগ – ব্যক্তিগত অভিনয়ে উত্তমকুমার, আর সাংবাদিকতায় বরুণ সেনগুপ্ত। আশির দশকের গোড়া পর্যন্ত এটাই
এক সজ্জন প্রতিবেশী…
বিভাগ – ব্যক্তিগত রাজনীতি নাকি পাজি, বদমাইস (স্কাউনড্রেল)-দের শেষ আশ্রয়। জর্জ বার্নাড শ’র মতো
পাখি মোর ফিরে আয়
বিভাগ – ব্যক্তিগত একটা কথা আমার মাথায় কিছুতেই ঢোকে না। সুভাষ বসুকে আমরা, বাঙালিরা,
দিল্লি-সরকারের সাংস্কৃতিক বিপ্লৰ
বিভাগ – সাহিত্য সংস্কৃতি দৃশ্য এক। ভারতীয় শিল্প রুশদের হালয় জয় করছে-মস্কোভা নদী ধরে
শিল্পের সন্ধানে ক্রেতা…
বিভাগ – সাহিত্য সংস্কৃতি আর দু-এক সপ্তাহের মধ্যেই একটা সম্পূর্ণ নতুন ধরনের নিলাম ডাকা